Skip to main content

অনামিকা ||


অনামিকা,তুমি কি দেখেছো-
লাল সূর্যের নিচে যে আলোহীন মানুষটি
হিমালয়ের মত একবুক শূণ্যতা নিয়ে
কিভাবে তোমাকে ঘিরে আছে।
সে তোমার হৃদয়ের দগদগে-
নীলাভ অঞ্চলের এক নিষিদ্ধ শ্বেতমুখ।
ভবিষ্যতের সোনালী ফসল
ঘরে তুলবে বলে,
বর্তমানের মরুভূমিতে যে দাঁড়িয়ে আছে
তুমি কখনো কি তাকে চিনেছো, অনামিকা?
যে তীব্র আলোয় তোমার চোখ ধাধিয়ে যাচ্ছে বারবার
ক্রমশঃ বাধ্য হয়ে ওঠেছো তুমি হিসেবের ডালপালায়
তার অন্তরালে,আজন্ম অন্ধ হয়েও
যে তোমাকে রঙ এনে দেবে বলে কথা দিয়েছে
তার চোখ কি কখনো তুমি ছুয়ে দেখেছো,অনামিকা
কত নারী,কত সে পুরুষ হারিয়েছে সময়ের নির্মমতায়
কত জীবন পাড় করে পেয়েছে তারা নতুন জীবন
তুমি কি সেই সুন্দর সময়ের সারথি হতে চাওনা,অনামিকা?
আনন্দের দিনরাত্রি পেরিয়ে
একান্তে পড়ে রয় যে বিষাদী সময়
সে বড় নিঃসঙ্গ, অসহ্য,মায়াহীন।
সে সময়ে তোমাকে ভাসাবে না বলে
যে তোমার পথ আগলে দাঁড়িয়ে আছে
তুমি কখনো কি তাকে বুঝেছো,অনামিকা?
অনূভুতির মাতাল সীমানায়
যে অদৃশ্য প্রাচীর গড়ে ওঠছে প্রতিনিয়ত
তুমি কখনো কি তা ভাঙবে না,অনামিকা?
বিদ্ধস্থ নীলিমার নিচে
দিনশেষে একা যে মানুষটি তোমার জন্য অপেক্ষা করে
জাগতিক নিরাপত্তা উপেক্ষা করে
শেষ পর্যন্ত,
তুমি কি তার হাত ধরে থাকবে না,অনামিকা?
যে তোমার অপেক্ষায় সময়ের সারণীতে নিজেকে করেছে স্তব্ধ,
মরীচিকা নয়, তুমি হয়ো তার জীবনের ভবিতব্য।
তার জীবনে যে টুকু আছে শূন্যতা,
সে তো তোমার ই জন্যে
যদি পার দিয়ো তাকে পূরণতা।
হাতটি তুমি ধরতেই পার অনামিকা..

Comments

Popular posts from this blog

ভালবাসা কোনো মোহ নয়, তা হল দুটি আত্মার আকর্ষন

ভালবাসা কোনো মোহ নয়, তা হল দুটি আত্মার আকর্ষন। তার কার্যক্ষেত্র জড়জগতে নয়, তার বিকাশ আত্মার মাঝে, কেননা ভালবাসা বা প্রেমের পরিপূর্ণরূপ হল ঈশ্বর। প্রেম একটি অপার্থিব শক্তি, দুইটি আত্মার মাঝে স্বর্গীয় আকর্ষন।

শুভ সকাল

আলোকে মোর চক্ষু দুটি মুগ্ধ হয়ে উঠলো ফুটি। হৃদয় গগনে পবন হলো, সৌরভেতে মন্থর। সুন্দর হে সুন্দর........ .... দিনটা খুব ভালো কাটুক..... ......... শুভ সকাল........ ............. বন্ধু....খুব ভালো কাটুক সারাদিন ।

অনামিকা || পরশ পাথর

অনামিকা , তোর চুল ময়ূরাক্ষীর কাক কালো জল, আমার খেয়া শুধু বারবার ডুবে ডুবে যায়, আমি বারবার হেরে যাই নিজের কাছে, আমি বারবার হেরে যাই সময়ের কাছে, আমি বারবার হেরে যাই নিয়তির কাছে, তবুও তুই প্রবাহমান, স্রোতশিলা, তেজস্বিনী । অনামিকা , তোর দুচোখ নিঃসীম নির্নিমেষ নক্ষত্রবীথি আমার কবিতার খাতা ছিঁড়ে তৈরি হয় কাগজের খেলনা এরোপ্লেন, হাওয়ায় হাওয়ায় উদ্দাম উড়ে, সে এরোপ্লেন কখনো পায়না তোর ছায়াপথের দেখা, একসময় ক্লান্ত হয়ে সে ঝড়ে পরে ভূমি শয্যায়, তবুও তুই থেকে যাস নিঃসীম নির্নিমেষ নক্ষত্রবীথি। অনামিকা , তোর হৃদয় অনতিক্রম্য অনন্ত মহাকাল, আমার হাহাকার নিঃশেষে মিশে যায় স্তব্ধ সাগরের বুকে ঝরা এক ফোঁটা বৃষ্টির মতো, আমার বুক থেকে উঠে আসা দীর্ঘশ্বাসের পথ বেয়ে ধরণীতে নেমে আসে বাধভাঙা অশ্রু প্লাবন, তবুও তুই থেকে যাস অনতিক্রম্য অনন্ত মহাকাল ।